আজ আমরা এমন একটি ফল সম্পর্কে জানব যাকে “ফলের রাণী” বলা হয়ে থাকে। এই ফলটির আসল নাম ম্যাঙ্গোস্টিন ফল (Mangosteen Fruit)। এই ফলটি বিভিন্ন উপকারিতায় ভরপুর। ফলটি দেখতে অনেক আর্কষণীয়ও বটে। এই ফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চলুন নিচে থেকে ঘুরে আসি।
ম্যাঙ্গোস্টিন ফলের বর্ণনা:
ম্যাঙ্গোস্টিন ফলটি “ফলের রাণী” নামেও পরিচিত। এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় একটি ফল। এই ফলটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে এই ফলটির উৎপাদন সারা বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়েছে। ম্যাঙ্গোস্টিন ফলের ভিতরে সাদা ভোজ্য অংশটি চার থেকে আটটি অংশে বিভক্ত থাকে। এই ফলটি মূলত তাজা অবস্থায় খাওয়া হয়ে থাকে। বিভিন্ন দেশে ফলটি অনেক তরকারিতে রান্না করেও খাওয়া হয়ে থাকে।
ম্যাঙ্গোস্টিন ফলটি এত রসালো যে, কোন ব্যক্তি প্রচুর পরিমাণে এটি খেতে পারে না। আর এই ফলটির অনেক সুগন্ধযুক্ত। এটি ছোট এবং গোলাকার একটি ফল। ফলটি গাঢ়, বাদামী ও বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। ম্যাঙ্গোস্টিন ফলের উপরের ত্বক বা খোসা অনেক শক্ত, তবে ফলটি পাকলে সহজেই ফেটে যায়। তখন ভিতরের সাদা অংশটি সহজেই বের হয়ে আসে। কিছু সাদা অংশের মধ্যেও বীজ থাকতে পারে। বীজ এবং ফলের উপরের ত্বক খাওয়া যায় না। কারণ এগুলি সাধারণত তেতো হয়ে থাকে।
উনিশ শতকে রানী ভিক্টোরিয়া ম্যাঙ্গোস্টিন ফলের স্বাদ গ্রহণ করে এটি তার প্রিয় ফল হিসেবে বর্ণনা করেছিল। ফলটির সত্যিকার উৎস জানা যায়নি। তবে অনেকের মতে এটি মালয়েশিয়া বা ভারতের উদ্ভুত বলে ধারনা করা হয়। ম্যাঙ্গোস্টিন ফলটিকে বৈজ্ঞানিকভাবে “গার্সিনিয়া ম্যাঙ্গোস্টানা” নামে ডাকা হয়ে থাকে। ম্যাঙ্গোস্টিন ফলগুলির নীচে ফুলের পাঁপড়ির মতো কয়েকটি পাঁপড়ি রয়েছে এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে বহিরাগত ফল।
ম্যাঙ্গোস্টিন ফলের বিভিন্ন উপকারীতা:
ম্যাঙ্গোস্টিন ফলসহ এর বিভিন্ন অংশ ঔষুধি ব্যবহারের জন্য বিশেষ পরিচিত। এটিতে জ্যানথনের মতো অ্যান্টি অক্সিডেন্টগুলির উপস্থিতির প্রতিরোধ করতে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ উপাদান রয়েছে। অনেক দেশে ম্যাঙ্গোস্টিন থেকে তৈরি মলম আঘাত ও কোন সংক্রমণ নিরাময়ে কার্যকর। এর শুকনো গুড়ো আমাশয় এবং মেয়েদের মাসিকের বিভিন্ন সমস্যা দুর করতে অনেকটা সহায়।
সমস্ত ম্যাঙ্গোস্টিন ফলটি ব্যথা, জ্বর, সংক্রমণ রোগের চিকিৎসায় সর্বত্র ব্যবহার হয়ে থাকে। ফলটি সমস্ত খারাপ কোলেস্টেরলের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে সেই সাথে কোলন ক্যান্সারের কোষগুলির বৃদ্ধিও কমিয়ে দেয়। এই ফলে বিভিন্ন পুষ্টি যেমন ফাইবার, ফ্যাট, প্রোটিন, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম এবং আয়রন থাকে।
ম্যাঙ্গোস্টিন ফলটি আমাদের দেহে হিস্টামিন ও প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনগুলিতে রোধ করতে সহায়তা করে সেই সাথে ফলগুলি ত্বকের বার্ধক্য, অ্যালার্জি ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে বিভিন্ন সংক্রমন রোধ করতে সাহায্য করে।
ম্যাঙ্গোস্টিন ফলটি যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকে। শরীরের রক্ত প্রবাহকে সঠিক মত চলাচল করতে সাহায্য করে। ত্বকের তৈলাক্তভাব এবং ব্রণ প্রতিরোধেও সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও সর্দি, কাশি থেকে নিরাপদ রাখে। জ্যাম তৈরিতেও ফলটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সিদ্ধ বা ভেজে এই ফলের বীজগুলিও খাওয়া হয়ে থাকে।
সংগৃহীত
0 Comments
আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ।